রবিবার, ২৫ জুলাই ,২০২১

Bangla Version
  
SHARE

রবিবার, ০৪ জুলাই, ২০২১, ০১:০৩:৩০

ঢাকার দুইমহানগরে বিএনপির নেতৃত্বে আসছেন যারা

ঢাকার দুইমহানগরে বিএনপির নেতৃত্বে আসছেন যারা

ঢাকা: অবশেষে আলোর মুখ দেখছে ঢাকা মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি গঠনের দীর্ঘ প্রক্রিয়া। মাঠের নেতাদের বেশি গুরুত্ব দিয়ে নতুন নেতৃত্ব বেছে নিতে নবীন-প্রবীণ সমন্বয়ে গ্রহণযোগ্য নেতাদের প্রাধান্য থাকছে উত্তর ও দক্ষিণ দুই মহানগর কমিটিতেই। ইতোমধ্যে নতুন কমিটি গঠনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। যেকোনও সময় ঘোষণা হতে পারে মেয়াদোত্তীর্ণ এই কমিটি। প্রথমে আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হবে। পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে এই কমিটিকে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেয়া হবে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মহানগরের এই মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির নতুন নেতৃত্ব খুঁজতে স্থায়ী কমিটির একজন নেতাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। তিনি উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির নেতৃত্বে যারা যোগ্য তাদের একটি তালিকা করে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে পাঠিয়েছেন।

বিএনপির একাধিক নীতিনির্ধারক জানান, বিগত আন্দালন সংগ্রামে বারবার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে ঢাকা মহানগর বিএনপি। এক দশক ধরে রাজপথে দাঁড়াতেই পারছে না মহানগর বিএনপি। উত্তরের সভাপতি মামলা ও পরোয়ানা নিয়ে দেশের বাহিরে অবস্থান করছেন বেশ কয়েক বছর ধরে। সাধারণ সম্পাদক গত বছর করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদককে ভারপ্রাপ্ত করা হয়েছে। অন্যদেরও দলীয় কর্মসূচিতে তেমন দেখা যায় না। অপরদিকে দক্ষিণ বিএনপির বর্তমান সভাপতিকে বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে দেখা গেলেও সাধারণ সম্পাদকের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে।

দলে গতি আনতে ঢাকা মহানগর বিএনপিকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। কিন্তু এরপরও আশানুরূপ ফল দেখাতে পারেনি উত্তরের নেতারা। সর্বশেষ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এছাড়া ক্ষমতাসীন সরকারের বর্তমান মেয়াদের দুই বছরের বেশি সময় অতিবাহিত হয়েছে। তাই অতীতের সব ব্যর্থতা মুছে ঢাকায় ঘুরে দাঁড়াতে চায় বিএনপি। সেজন্যই ঢাকা মহানগর বিএনপি ঢেলে সাজানো হচ্ছে।

মহানগরের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা জানান, নতুন কমিটি নিয়ে তাদের কোনও আপত্তি নেই। তবে তারা চাইছেন, ঢাকা সম্পর্কে যাদের জানাশোনা আছে তাদেরকেই যেন নেতৃত্বে আনা হয়। এমন কাউকে যেন দায়িত্ব দেয়া না হয় যারা ঢাকার থানা ওয়ার্ড ও ইউনিট সম্পর্কে অবহিত নন। ঢাকাকে শক্তিশালী করতে হলে অবশ্যই অলিগলি চিনতে হবে। নতুন কাউকে দায়িত্ব দিলে তাকে নতুন করে সবকিছু শুরু করতে হবে। সেটা কঠিন হবে।

উত্তর সিটিতে আহ্বায়ক/সভাপতি হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, বর্তমান সভাপতি এমএ কাইয়ুম, বিগত সিটি নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল। সাধারণ সম্পাদক/সদস্য সচিব হিসেবে আলোচনায় আছেন যুবদল কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, বর্তমান উত্তর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম নকি, সাবেক ফুটবলার বিএনপির ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল হক, বিএনপি নেতা ফেরদৌস আহমেদ মিষ্টি, একে এম মোয়াজ্জেম হোসেন ও বজলুল বাসিত আঞ্জু।

তবে বিএনপির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, আহ্বায়ক পদে বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ও সদস্য সচিব পদে যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরবকে সদস্য সচিব করে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটির প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত এ কমিটিতে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুল সালাম, মহানগর বিএনপি নেতা বজলুল বাসিত আঞ্জু’সহ অনেকেরই জায়গা হয়নি। তবে উত্তরের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম নকিকে সুপার ফাইভে রাখা হতে পারে।

জানতে চাইলে যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব বলেন, ‘ঢাকায় আমার জন্ম। ঢাকাতেই বেড়ে ওঠা। মহানগরের রাজনীতিতে আমার হাতেখড়ি। মহানগর ছাত্রদলের পর আমি যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হয়েছি। আমি মহানগরীতেই রাজনীতি করতে চাই। হাইকমান্ড সুযোগ দিলে আমি প্রস্তুত আছি।’

তিনি বলেন, ‘আমি এর আগেও অবিভক্ত ঢাকা মহানগর (খোকা-সালাম) কমিটিতে দায়িত্বে ছিলাম। মহানগরীতে তরুণ নেতৃত্ব প্রয়োজন। বিশেষ করে যারা পরীক্ষিত এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে সম্পৃত্ততা রয়েছে তাদের শীর্ষ নেতৃত্বে আনা হলে সংগঠন গতি ফিরে পাবে বলে আশা করি।’

বর্তমান সভাপতি এম এ কাইয়ুম বলেন, ‘কমিটি গঠনের কাজ চলছে কিনা আমার জানা নেই। তবে কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ বিষয়গুলো দেখতে পাচ্ছি।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি চাইলেই তো কমিটিতে থাকতে পারবো না। দলের হাইকমান্ড আছে। তারা যে সিদ্ধান্ত নেয় আমি সেটা মেনে নেবো।’

দক্ষিণের আহ্বায়ক হিসেবে বর্তমান সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের ব্যাপারে কোনও গ্রুপের বিরোধিতা নেই। তবে আমান উল্লাহ আমানের ব্যাপারে মির্জা আব্বাস সমর্থকেরা কঠোরভাবে বিরোধিতা করছেন বলে শোনা যাচ্ছে। শেষ মুহূর্তে আমানকে আহ্বায়ক করা হলে রফিকুল আলম মজনুকে সদস্য সচিব করা হতে পারে। এক্ষেত্রেও সদস্য সচিব পদে বিকল্প হিসেবে রাখা হয়েছে হাবিবুর রশিদ হাবিব এবং ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনকে। এদের মধ্যে দুজন মির্জা আব্বাসের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত। অন্যজন সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার পুত্র।

তবে বিএনপির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বর্তমান সভাপতি ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেলকে আহ্বায়ক এবং ফেনী-১ আসন থেকে গত নির্বাচনে অংশ নেয়া যুবদল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি রফিকুল আলম মজনুকে সদস্য সচিব করে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির প্রস্তাব করা হয়েছে।

আলোচনায় থাকা ডাকসুর সাবেক ভিপি কেরানীগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য আমানউল্লাহ আমান কমিটিতে আসতে পারছেন না। সূত্রটি আরও জানিয়েছে যদি কোনও কারণে আমান উল্লাহ আমানকে আহ্বায়ক করা হয় তবে সে ক্ষেত্রেও ঢাকার রাজপথে পরিচিত মুখ রফিকুল আলম মজনুকেই সদস্য সচিব হিসেবে বেছে নেয়া হতে পারে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সভাপতি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি রফিকুল আলম মজনু বলেন, ‘দীর্ঘ ৩৩ বছর ধরে আমি মহানগরীতে রাজনীতি করি। প্রতিটা আন্দালন সংগ্রামে আমি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছি। এই সরকারের আমলে ৭ বার কারাবরণ করেছি। দল যদি আমাকে যোগ্য মনে করে আমি দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত আছি।’

হাবিব-উন-নবী খান সোহেল বলেন, ‘কমিটি গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে আমি কিছু জানিনা। এটা দলের ঊর্ধ্বতন নেতারা জানেন।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে এটা ঠিক, তবে দীর্ঘদিন হয়েছে এটা বলা যাবে না। এর মধ্যে নানা কর্মকাণ্ড গেছে। ফলে কমিটি পুনর্গঠনে দলের শীর্ষ নেতারা যেটা ভালো মনে করেন সেটা হবে।’

এ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘করোনার কারণে আমাদের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া বলতে গেলে থমকে গেছে। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও আমরা সীমিত পরিসরে দল গোছানোর চেষ্টা করছি। সারা দেশে দল পুনর্গঠন প্রক্রিয়া চলছে। এর অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগর বিএনপির কমিটিও পুনর্গঠন করা হবে। সাংগঠনিকভাবে ঢাকা মহানগর দলের বেশ গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সবকিছু বিবেচনা করে সবার সমন্বয়ে কমিটি করা হবে।’

আজকের প্রশ্ন

পুরো ঢাকায় ‘অঘোষিত কারফিউ’ চলছে। সরকার জনগণকে জিম্মি করে জনগণকে বাদ দিয়ে বিদেশি অতিথিদের নিয়ে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে ব্যস্ত। ফখরুলের এক মন্তব্যের সঙ্গে আপনি কি একমত?