মঙ্গলবার, ২২ জুন ,২০২১

Bangla Version
  
SHARE

সোমবার, ২৪ মে, ২০২১, ১২:৫৮:৪৩

কৃষিঋণ বিতরণে লক্ষ্যের বহুদূরে এবি ব্যাংক

কৃষিঋণ বিতরণে লক্ষ্যের বহুদূরে এবি ব্যাংক

ঢাকা: গ্রামীণ অর্থনীতির প্রাণ খ্যাত কৃষি খাতে গতি বাড়াতে সরকার নানা উদ্যোগ ও পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সহজ ও স্বল্প সুদে কৃষকরা যাতে ঋণ পায় সেজন্য তফসিলি ব্যাংকগলোকে সহায়তা ও তদারকি করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে কৃষিখাতে কচ্ছপগতিতে ভুমিকা রাখছে প্রথম প্রজন্মের ব্যাংক হিসেবে পরিচিত আরব-বাংলাদেশে বা এবি ব্যাংক। গত নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) এই খাতে ব্যাংকটি লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ১২ দশমিক ১৩ শতাংশ ঋণ বিতরণ করেছে। অর্থাৎ বাকি তিন মাসে ব্যাংকটি সর্বোচ্চ চেষ্ঠা করলেও লক্ষ্যমাত্র অর্জন তো দূরের কথা এক তৃতীয়াংশ ঋণও বিতরণ করতে পারবে কি-না প্রশ্ন থাকে।

কৃষি ঋণ বিতরণে এবি ব্যাংকের পিছিয়ে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তারিক আফজাল মুঠোফোনে ঢাকা টাইমস প্রতিবেদককে বলেন, ‘আপনি কি রেগুলেটার? আপনাকে বলতে হবে কেন?’

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে কৃষি ঋণ বিতরণে ব্যাংকগুলোর লক্ষ্যমাত্রা ২৬ হাজার ২৯২ কোটি টাকা। এর মধ্যে গত নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) ব্যাংকগুলোর গড় ৭০ দশমিক ৪১ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে। কিন্তু আলোচ্য সময়ে এবি ব্যাংকের অর্জন মাত্র ১২ দশমিক ১৩ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরে কৃষি খাতে এবি ব্যাংকের ঋণ বিতরণের লক্ষ্য ৪৪১ কোটি টাকা। গত নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) ব্যাংকটি এই খাতে বিতরণ করেছে মাত্র সাড়ে ৫৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে শস্য খাতে ৪১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। পশু ও পোল্ট্রি খাতে ৩ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। মৎস্য খাতে ৪ কোটি ৭০ লাখ এবং অনান্যতে ৩ কোটি ২৮ লাখ। তবে সেচ সরঞ্জাম, কৃষি সরঞ্জাম, শৎস সংগ্রহ ও বিপনণ এবং দারিদ্র বিমোচন খাতে এক টাকাও ঋণ বিতরণ করেনি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কৃষি ঋণ বিতরণে ব্যাংকগুলোকে লক্ষ্যমাত্রা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে বিষয়টি এমন নয়। তাদের সম্মতিতে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের পর ব্যাংকগুলোকে তদারকি করা হয়। লক্ষ্যমাত্রা পূরণে কোনও ব্যাংক পিছিয়ে পড়লে তাদের সমস্যা খুঁজে সমাধানের তাগিদ দেওয়া হয়। এমনকি সরাসরি ব্যাংকের শাখা পর্যায়ে কথা বলে উৎসাহ দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, গ্রাম পর্যায়ে ব্যাংকের শাখা কম থাকলে নিবন্ধিত এনজিওর মাধ্যমে ঋণ দেওয়ার সুযোগ আছে। কিন্তু এরপরও যেসব ব্যাংক ধীর গতিতে ভূমিকা রাখছে তাদেরকে চিঠি দিয়ে কারণ ব্যাখা করতে বলা হয়েছে। সন্তোষজনক উত্তর না হলে জরিমানাসহ কঠোর ব্যবস্থার কথাও তাদেরকে জানানো হয়েছে।

প্রশ্ন করতেই ক্ষেপলেন এমডি:

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে কৃষি ঋণ বিতরণে এবি ব্যাংক পিছিয়ে আছে। এ বিষয়ে জানতে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারিক আফজালের কাছে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতিবেদককে তথ্য দিতে বাধ্য নন বলে মন্তব্য করেন।

তারিক আফজাল বলেন, ‘আপনি কি রেগুলেটার? আপনাকে বলতে হবে কেন?’ তথ্যের দরকার পড়লে তার সামনে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে এবি ব্যাংকের এ শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ‘আপনার তথ্য দরকার হলে আপনি আমার সামনে আসেন। আমি আমার কাগজ নেবো, তারপর তথ্য দেবো। দিস ইজ প্রফেশনাল। বিকজ ইউ টেলিং মি সামথিং হুইচ নট মি ট্রু এ্যান্ড আয়্যাম নট কাস্টিং ইনফরমেশন ফর ফোন। আপনি সেটাই ছাপাবেন যেটি আমি আপনাকে দেবো।’

প্রতিবেদক বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনের কথা বললে এবি ব্যাংক এমডি বলেন, ‘দিস ইজ নট রাইট। আই ডোন্ট এগ্রি দ্যাট। আমি সব মিডিয়ার সঙ্গে কাজ করি। আপনি টেলিফোনে হঠাৎ করে প্রশ্ন করে একটি তথ্য যেটা আমার কাছে নেই সেটার উত্তর আমার কাছে আশা করবেন সেটা দিতে পারবো না। বাংলাদেশ ব্যাংক কি বলেছে না বলেছে সেটার আমি দ্বিমত করছি। এর উত্তর আমার কাছে নাই।’

আজকের প্রশ্ন

পুরো ঢাকায় ‘অঘোষিত কারফিউ’ চলছে। সরকার জনগণকে জিম্মি করে জনগণকে বাদ দিয়ে বিদেশি অতিথিদের নিয়ে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে ব্যস্ত। ফখরুলের এক মন্তব্যের সঙ্গে আপনি কি একমত?