বৃহস্পতিবার, ০৫ আগস্ট ,২০২১

Bangla Version
  
SHARE

সোমবার, ১২ জুলাই, ২০২১, ১২:১১:৫৯

প্রাচ্যবিদদের ইতিহাস গবেষণায় নদভির সতর্ক পর্যবেক্ষণ

প্রাচ্যবিদদের ইতিহাস গবেষণায় নদভির সতর্ক পর্যবেক্ষণ

ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন
ইউরোপের অনেক ইহুদি-খ্রিষ্টান পণ্ডিত যারা আরবি, ইসলামিয়াত ও ইসলামের ইতিহাসে গবেষণার স্বাক্ষর রেখেছেন, তারা সবাই ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বিদ্বেষ পোষণ করতেন অথবা মিশনারি লক্ষ্যকে সামনে রেখে কাজ করেছেন, এমন ঢালাও মন্তব্য করা সমীচীন নয়। অনেকে জ্ঞানের বিকাশ ও গবেষণার উদ্দীপনা নিয়ে ইসলামকে প্রিয় বিষয় হিসেবে বেছে নিয়ে সারাটি জীবন এসব বিষয়ে মৌলিক গবেষণা, অধ্যয়ন ও অধ্যাপনায় জীবন উৎসর্গ করেছেন। অনেক পরিচ্ছন্ন অন্তরের অধিকারী ইহুদি-খ্রিষ্টান পণ্ডিত ও গবেষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টার ফলে দুষ্প্রাপ্য অনেক ইসলামী গ্রন্থের পাণ্ডুলিপি সূর্যের মুখ দেখেছে। তাদের মেহনত ও প্রয়াসের ফলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ইসলামী উলুমের মূলসূত্র ও ইতিহাসের দস্তাবেজ মুদ্রিত হয়ে বিশ্বব্যাপী প্রচারিত হয়।

পাশ্চাত্য পণ্ডিতদের এ জ্ঞান সাধনার ফসল প্রাচ্য দেশগুলোর পণ্ডিত ও গবেষকদের জন্য জ্ঞানচর্চার দিগন্ত উন্মোচন করে দেয়। প্রাচ্যবিদদের (ঙৎরবহঃধষরংঃ), মর্যাদা ও জ্ঞান সাধনার স্বীকৃতি দেয়ার সাথে সাথে এ কথা নির্ধিদ্বায় বলা চলে যে, ইহুদি-খ্রিষ্টান আরবি ভাষাবিদগণের এক বৃহত্তর অংশ সবসময় ইসলামী শরিয়ত, মুসলমানদের ইতিহাস এবং মুসলিম তাহজিব ও তমদ্দুনের দুর্বলতা ও ভ্রান্তির সন্ধানে তাদের মেধা ও শ্রমকে কাজে লাগিয়েছেন পুরোপুরি; রাজনৈতিক ও ধর্মীয় উদ্দেশ্য সাধনে তারা ইলম ও পাণ্ডিত্যকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন। বর্তমান বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইসলামী পণ্ডিত ও তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের গবেষক, সাইয়েদ আবুল হাসান আলি নদভি রহ: এ ব্যাপারে চমৎকার মন্তব্য করেন, ‘দুঃখের বিষয় এই যে, বহু প্রাচ্যবিদকে আমরা এ কাজ করতে দেখি, তারা তাদের সব প্রয়াস ও সাধনাকে ইসলামের ইতিহাস, ইসলামী সমাজ, তাহজিব-তমদ্দুন ও সাহিত্য সংস্কৃতির ত্রুটি-বিচ্যুতির অন্বেষায় ব্যয় করেন। অতঃপর তা জনসমক্ষে উপস্থাপন করেন নাটকীয় ভঙ্গিতে। তারা অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে সামান্য ভুলভ্রান্তিকে চিহ্নিত করে ধূলিকণাকে পাহাড়ে এবং বিন্দুকে সিন্ধু বানিয়ে পাঠকের সামনে পেশ করেন। তাদের প্রখর মেধা ও বুদ্ধির তীক্ষèতা ইসলামের চেহারাকে বিকৃত করার প্রয়াসে নিয়োজিত (সাইয়েদ আবুল হাসান আলি নদভি, ইসলামিয়া আওর মাগরিবি মুস্তাশরিকিন, লক্ষৌ (১৯৮২ খ্রি.), পৃ. ১১)।

অনেক পাশ্চাত্য আরবি ভাষাবিদ তাদের লক্ষ্যার্জনের উদ্দেশ্যে সূকৌশলের আশ্রয় নেন, যা সাধারণ পাঠকের পক্ষে ধরা সম্ভব নয়। প্রথমত, তারা একটি নির্দিষ্ট বিষয়কে টার্গেট করে নেন; অতঃপর তা অর্জনের জন্য বিভিন্ন তথ্য ও উপাত্ত জোগাড়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কেবল কুরআন, হাদিস, ফিকহ ও ইসলামের সূত্রে নয়, বরং উপন্যাস, উপাখ্যান, কল্প ও গল্পগ্রন্থের সূত্র সংগ্রহ করে ভাষার দক্ষতা ও উপস্থাপনার চাতুর্য দিয়ে পাঠকের হৃদয়-মনকে সম্মোহিত করার চেষ্টা চালান। পাঠককে তারা এ কথা বোঝানোর চেষ্টা করেন যে, এ বিষয়ে তারাই গবেষণার সর্বশেষ অবলম্বন। দ্বিতীয়ত, তারা ইসলামের ইতিহাসের কোনো প্রিয় সম্মানিত ব্যক্তিকে তাদের গবেষণার বিষয় হিসেবে বেছে নেন এবং দুর্বল দিকটুকু চিহ্নিত করেন সুচতুরতার সাথে। অতঃপর পাঠকের হৃদয়ে স্থান করে নেয়ার উদ্দেশ্যে ইসলামের সেই মর্যাদাবান ব্যক্তির বেশ কিছু ভালো দিক অত্যন্ত প্রশংসার সাথে উল্লেখ করেন। ফলে সাধারণ পাঠক লেখকদের উদারতার কারণে প্রভাবিত হয়ে পড়েন এবং দুর্বল দিকটি কবুল করে নেন স্বাভাবিকভাবে। তৃতীয়ত, এসব ইহুদি-খ্রিষ্টান পণ্ডিত কোন দেশের দাওয়াত, বিপ্লবী ব্যক্তিত্ব, পরিবেশ, পরিস্থিতি ও ঘটনাপ্রবাহের এমন ধারাবিবরণী তুলে ধরেন, যাতে পাঠকের মনে ধারণা জন্মায় যে, মূলত এসব আন্দোলন প্রকৃতিগতভাবে ও স্বাভাবিক নিয়মেই সফল হয়েছে যেন অগ্নিকুণ্ড আগেই তৈরি শুধু অপেক্ষা ছিল বিস্ফোরণের। দাওয়াতি আন্দোলনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পরিস্থিতির সুযোগ বুঝে ফুঁ দিয়েছেন অমনি আগুনের লেলিহান শিখা দাউ দাউ করে জ্বলে উঠল (সাইয়েদ আবুল হাসান আলি নদভি, ইসলামিয়া আওর মাগরিবি মুস্তাশরিকিন, লক্ষৌ (১৯৮২), পৃ. ১১)।

এর ফলে পাঠকের মন খোদায়ী শক্তির দিকে ধাবিত হয় না; এতে বিপ্লবী ব্যক্তির প্রাণান্তকর প্রয়াসের স্বীকৃতি মেলে না; দাওয়াতি কর্মকাণ্ডের প্রতি শ্রদ্ধা জাগে না এবং আন্দোলনের চূড়ান্ত সফলতার জন্য আল্লাহ পাকের অপরিহার্য সাহায্যের প্রতি আস্থা থাকে না। এভাবে অনেক প্রাচ্যবিদ কুরআন, হাদিস, দর্শন, ইতিহাস, সাহিত্য ও ইসলামী আইনের পর্যালোচনা করতে গিয়ে অত্যন্ত সূ-কৌশল ও সুচতুরতার সাথে সন্দেহের বীজ ঢুকিয়ে দেন যাতে পরিচ্ছন্ন পাঠকের হৃদয়-মন অহেতুক সন্দেহের ছোঁয়ায় বিষিয়ে ওঠে। আল্লামা আবুল হাসান আলি নদভি যর্থাথই মন্তব্য করেছেন যে, ‘ইহুদি-খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী আরবি ভাষাবিদগণের মধ্যে অনেকে তাদের প্রবন্ধ ও গ্রন্থাদিতে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ বিষ খুবই সতর্কতার সাথে মিশিয়ে দেন, যা পরিমিত মাত্রার চেয়ে যাতে বেশি না হয়, পাঠকের জন্য বিরক্তি উৎপাদনের কারণ হয়ে না দাঁড়ায় এবং পাঠককে যেন সচেতন ও সতর্ক করে না দেয়। অধিকন্তু এটি যেন ‘বিজ্ঞপণ্ডিত’-এর ন্যায়ানুগ নিরপেক্ষতা ও বিশুদ্ধ নিয়তকে সন্দেহপ্রবণ না করে তোলে। এভাবে প্রাচ্যবিদদের গ্রন্থাবলি অধিকতর ক্ষতিকারক ও বিপজ্জনক সে বিরুদ্ধবাদী লেখকদের চেয়ে যারা খোলা মনে দুশমনি প্রকাশ করে থাকেন’ (সাইয়েদ আবুল হাসান আলি নদভি, ইসলাম আওর মাগরিবি মুস্তাশরিকিন, লক্ষৌ (১৯৮২ খ্রি.), পৃ. ১৬)।

আরবি ভাষা ও ইসলামী সাহিত্য বিষয়ে অভিজ্ঞ এসব ইহুদি-খ্রিষ্টান পণ্ডিতের প্রচেষ্টার আরেকটি লক্ষ্য হলো ভাষা ও ইসলামী আইন, সংস্কৃতি সম্পর্কে সংশয়ের জন্ম দেয়া, যাতে তারা যখন শিক্ষা সমাপ্ত করে দেশে প্রত্যাবর্তন করবেন তখন তারা হবেন ইসলাম ও জীবন সম্পর্কে হতাশ; ইসলামী উম্মাহর বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে হবেন দ্বিধাগ্রস্ত ও সংশয়ী। পরবর্তী সময়ে পাশ্চাত্যে শিক্ষাপ্রাপ্ত এসব ব্যক্তি যখন নিজ দেশে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অধিকারী হন তখন তারা ইসলামী শরিয়া আইনকে সংস্কার ও ইসলামের আধুনিকীকরণের পুরোধা বনে যান। পাঠক স্তম্ভিত হয়ে যাবেন যে, খ্রিষ্টীয় ১৮৮০ থেকে ১৯৫০ পর্যন্ত এবং দেড় শ’ বছরে ইহুদি-খ্রিষ্টান পণ্ডিতরা ইসলামসহ প্রাচ্যের বিভিন্ন বিষয়ে ৬০ হাজার পুস্তক প্রণয়ন করে গোটা দুনিয়াবাসীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন (ঊফধিৎফ ডরষষরধস ঝধরফ, ঙৎরবহঃধষরংস, টঝঅ, ১৯৭৮ , ঢ়. ২০৪) এ উপমহাদেশের মুজাহিদে আজম, মুসলিহে উম্মত সাইয়েদ আহমদ শহীদ বেরলভি রহ:-এর ওপর লিখিত আল্লামা নদভির অমূল্য গ্রন্থ ‘সিরাতে সাইয়েদ আহমদ শহীদ’ ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন ও ইসলামী বিপ্লবের এক ঐতিহাসিক দস্তাবেজ। হিন্দু ও ইউরোপীয় ইতিহাসবিদরা বালাকোট আন্দোলনের প্রেক্ষাপট, ঘটনাপরম্পরা ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে সাইয়েদ আহমদ শহীদের বিরূপ সমালোচনা করে থাকেন। ড ড ঐঁহঃবৎ তৎলিখিত ঞযব ওহফরধহ গঁংধষসধহং গ্রন্থে ব্রিটিশ সরকারের প্রতি ভারতীয় মুসলমানদের অসন্তোষ ও বিদ্রোহের কারণ নির্ণয় করতে গিয়ে ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামের অন্যতম অগ্রনায়ক সাইয়েদ আহমদ শহীদ রহ:-এর কঠোর সমালোচনা করেছেন; এমনকি তাকে দস্যু, মৃগীরোগী এবং তার শিষ্য ও মুরিদদের ভণ্ড, গোঁড়া ও হাঙ্গামাবাজ হিসেবে চিত্রায়িত করতেও ভুল করেননি (উইলিয়াম হান্টার, দি ইন্ডিয়ান মুসলমান, আবদুল মওদুদ অনূদিত, বাংলা একাডেমি, ঢাকা, ১৯৭৪ খ্রি., পৃ. ৪০-৪৩)।

আল্লামা নদভি এসব অভিযোগ তথ্য ও যুক্তি দিয়ে খণ্ডন করে শহীদে বালাকোটের তাকওয়া, ত্যাগ, সাংগঠনিক দক্ষতা, পরোপকার, আল্লাহর পথে জান কোরবান করার অদম্য স্পৃহার পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস রচনা করেন। ‘সিরাতে সাইয়েদ আহমেদ শহীদ’ নামক এ গ্রন্থটি মুসলিম মিল্লাতের জন্য তাঁর একটি বিরাট তোহফা। সাইয়েদ আহমদ শহীদের জিহাদি আন্দোলনের প্রভাবে ওলামা খানকা থেকে, আমির-ওমরাহ শাহিমহল থেকে, সাধারণ জনগণ কর্মস্থল থেকে বেরিয়ে জিহাদের ময়দানে যেভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েন তার রূহানি কারণ, রাজনৈতিক পটভ‚মি, উদ্দেশ্যের সততা, শাহাদতের জজবা, পরবর্তী জিহাদি আন্দোলনের প্রভাব ইত্যাদি পূর্ণাঙ্গভাবে বিশ্লেষিত হয়েছে এ গ্রন্থে।

মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাচ্যবিদদের লিখিত ইতিহাস গ্রন্থের অস্বাভাবিক কদর রয়েছে। দীর্ঘকাল ধরে ইসলামী বিষয়ে ইহুদি-খ্রিষ্টান পণ্ডিতরা যেসব গ্রন্থ প্রণয়ন করেছেন, ইসলামী দুনিয়া ও আরব দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকবৃন্দ এ গ্রন্থাবলিকে তত্ত্ব, তথ্য ও জ্ঞানের একমাত্র উৎস ও সূত্র হিসেবে বিবেচনা করে থাকেন। এটি কেবল পরিতাপের বিষয় নয়, বরং মুসলমানদের দুর্বলতা, জ্ঞানের দীনতা ও আত্মবিশ্বাসের অভাবই প্রকট হয়ে এতে ফুটে ওঠে। প্রাচ্যদেশীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পণ্ডিতবর্গ প্রাচ্যবিদদের লিখিত গবেষণাকর্মগুলোকে এড়ংঢ়বষ-এর মতো পবিত্র মনে করে থাকেন।

এ আলোচনার প্রেক্ষাপটে প্রমাণিত হয় যে, ইহুদি-খ্রিষ্টান পণ্ডিতদের ইসলামী বিষয়ে ব্যাপক ও বহুমাত্রিক গবেষণা অনেকটা রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিদ্বেষপ্রসূত বলে গবেষণার ফলাফলে ইতিবাচক দিকের চাইতে নেতিবাচক দিকেরই প্রাধান্য ফুটে ওঠে। এ মুহূর্তে মুসলমানদের কী করা উচিত, কী পদক্ষেপ নেয়া দরকার সেটিই মুখ্য বিষয় এবং সময়ের দাবি। এ জিজ্ঞাসার জবাব দিয়েছেন এ বিষয়ের গবেষক আল্লামা নদভি নিজেই যা মুসলিম উম্মাহর জন্য দিকনির্দেশনার ভ‚মিকা রাখে, ‘দাওয়াতি লক্ষ্যকে সামনে রেখে নিজস্ব একাডেমি, দীনি ফাউন্ডেশন ও বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে সাহিত্য, রাজনীতি বিজ্ঞান, নীতিবিদ্যা, আইন ও ইসলামের ইতিহাস পুনঃরচনায় স্বয়ম্ভরতা অর্জনে এমনভাবে এগোতে হবে যাতে কোনো অনুসন্ধিৎসু পাঠক বা নিবেদিত গবেষক আরবি সাহিত্য ও সংস্কৃতির রচনায় কোনো নিকলসন, ব্রাউন, বা হিট্টির শরণাপন্ন হতে না হয়। ইসলামী শরিয়াহ, হাদিস ও ফিকহের গবেষণায় কোনো গোল্ডজিহর বা শাখতের যেন প্রয়োজন না পড়ে। অথবা আরবি গদ্য ও পদ্যের বিভিন্ন ধারার তুলনামূলক বিশ্লেষণে কোনো মার্গুলিয়সের যেন সাহায্যের প্রয়োজন না হয়’ (ঝধুুরফ অনঁষ ঐধংধহ অষর ঘধফযরি, ওংষধসরপ ঝঃঁফরবং ঙৎরবহঃধষরংস ধহফ গঁংষরস ঝপযড়ষধৎং-অওজচ, খঁপশহড়,ি ওহফরধ, ১৯৮৩, ঢ়. ১৭) ।

সিরাতে রাসূল, ইসলাম ও মুসলমানের ইতিহাস রচনায় আবুল হাসান আলি নদভি রহ: এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গির জন্ম দেন, যা তার একান্ত নিজস্ব হওয়ার কারণে বৈচিত্র্যপূর্ণ। প্রথাগত ইতিহাস গ্রন্থনার বিপরীতে নবতর আঙ্গিকে ইতিহাস রচনায় প্রয়াসী হন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মহানবী সা:-এর দাওয়াতে, ইসলামের পথে ও ময়দানে কোনো শূন্যতা নেই; ইসলামের ইতিহাস রচনা, সঙ্কলন ও শ্রেণিবিন্যাসে শূন্যতা রয়েছে। এ শূন্যতা পূরণ হচ্ছে সময়ের জরুরি দাবি, গুরুত্বপূর্ণ দীনি ও বুদ্ধিবৃত্তিক খিদমত। এ কাজের পূর্ণতার মাধ্যমে কেবল ইসলাহ ও দাওয়াতের ইতিহাস সঙ্কলিত হবে না, বরং প্রাসঙ্গিকভাবে মুসলমানদের যুক্তিচিন্তন, জ্ঞান-বিজ্ঞানে অধঃপতন ও বিবর্তনের ইতিহাস অস্তিত্বে এসে যাবে। মুসলমানদের প্রথম বিপ্লব ছিল মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা:-এর আগমন ও ইসলামী দাওয়াতের ফল; আর দ্বিতীয় বিপ্লব ছিল উম্মতে মুহাম্মদীর অধঃপতন ও ইসলামের দাওয়াতি কর্মকাণ্ডে শৈথিল্য প্রদর্শনের পরিণতি। মুসলমানদের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের চেতনা এবং ইসলামের পথে প্রত্যাবর্তনের উদ্দীপনা ও কর্মস্পৃহা সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে তাদেরকে স্বীয় মর্যাদার কথা স্মরণ করে দিতে হবে; এ কথা তাদেরকে বলে দিতে হবে যে, পৃথিবীকে নতুনভাবে বিনির্মাণ ও পুনর্গঠনের গুরুত্বপূর্ণ কাজে মহানবী সা:-এর অনুসারীগণ একটি কার্যকর ও গতিশীল ফ্যাক্টর, মুসলমানরা চলমান কোনো মেশিনের খুচরা যন্ত্রাংশ নয়; কোনো নাট্যমঞ্চের ভোজবাজিকরও নয়।’ পরিশেষে বলা যায়, যে গবেষক ও পণ্ডিতদের প্রাণান্তকর মেহনত ও সাধনার ফলে মহানবী হজরত মুহাম্মদ সা:-এর গৌরবোজ্জ্বল জীবন, শিক্ষা ও ইসলামের আদর্শ অমরত্ব লাভ করেছে, আল্লামা সাইয়েদ আবুল হাসান আলি নদভি রহ: তাদের অন্যতম। ইতিহাসের ধারাবর্ণনাকে উচ্চাঙ্গের সাহিত্যের বাহনে তুলে তিনি নতুনত্ব সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছেন।

লেখক : অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও গবেষক
drkhalid09@gmail.com

 

আজকের প্রশ্ন

পুরো ঢাকায় ‘অঘোষিত কারফিউ’ চলছে। সরকার জনগণকে জিম্মি করে জনগণকে বাদ দিয়ে বিদেশি অতিথিদের নিয়ে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে ব্যস্ত। ফখরুলের এক মন্তব্যের সঙ্গে আপনি কি একমত?