শিরোনাম :
২৬ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে ইউজিসির সতর্কতা জারি দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আরও ২৫৪ জন কুয়াকাটা হবে আন্তর্জাতিক মানের নান্দনিক সীবীচ ভারতে আরও ২ হাজার ৫২০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন ‘শনিবার থেকেই বিমানবন্দরে করোনা পরীক্ষা’ উপসর্গ থাকলে স্কুলে না পাঠানোর আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর বাংলাদেশে করোনায় আরও ২৪ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১১৪৪ সূচকের মিশ্রাবস্থা, কমেছে লেনদেন ফের উত্তপ্ত কাচঁপুর, পুলিশের সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, ভাঙ্গচুর, গুলি স্বামী হত্যায় স্ত্রীর যাবজ্জীবন দেশে কিশোর গ্যাংয়ের অস্বিত্ব থাকবে না: র‌্যাব এডিজি রোহিঙ্গাদের সহায়তায় ৮ কোটি ডলার দেবে যুক্তরাষ্ট্র ই-অরেঞ্জ গ্রাহকদের মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জে আহত ১০ ডা. জাফরুল্লাহ স্বৈরাচার এরশাদের দোসর ছিলেন : রিজভী সম্মতিতে যৌনমিলন ধর্ষণ নয় : হাইকোর্ট

দেশের ১০ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতির শঙ্কা

  • মঙ্গলবার, ৩১ আগস্ট, ২০২১

ঢাকা: আগামী ২৪ ঘণ্টায় দেশের ১০ জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। একইসঙ্গে ৬টি নদীর পানি ১৩টি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে দেশের উত্তর, উত্তর-মধ্যাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলের জেলাগুলোতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

সোমবার (৩০ আগস্ট) বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান ভুঁইয়া গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, গত কয়েকদিন ধরেই দেশের একাধিক জেলার বন্যা পরিস্থিতি অবনতির দিকে যাচ্ছে। এছাড়া মাঝেমধ্যে কোনো কোনো নদ-নদীর পানি বাড়ছে আবার কোনো কোনোটির কমছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি সমতল বৃদ্ধি পাচ্ছে। অপরদিকে যমুনা নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল রয়েছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় উভয় নদীর পানির সমতল বৃদ্ধি পেতে পারে।

গঙ্গা নদীর পানি সমতল কমেছে জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, অপরদিকে পদ্মা নদীর পানি বাড়ছে। এই পানি বাড়ার ধারা আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অপার মেঘনা অববাহিকার মনু ও খোয়াই ব্যতীত প্রধান নদীগুলোর পানি সমতল হ্রাস পাচ্ছে, যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, আগামী ২৪ ঘণ্টায় কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী এবং ফরিদপুর জেলার নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, যমুনা নদীর ৮টি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে ফুলছড়ি পয়েন্টে ১০ সেন্টিমিটার, বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে ১৪ সেন্টিমিটার, সারিয়াকান্দি পয়েন্টে ৩২ সেন্টিমিটার, কাজিপুর পয়েন্টে ৩১ সেন্টিমিটার, সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে ৩৪ সেন্টিমিটার, পোড়াবাড়ি পয়েন্টে ৭ সেন্টিমিটার, মথুরা পয়েন্টে ৬ সেন্টিমিটার ও আরিচা পয়েন্টে ৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি বইছে।

এদিকে, পদ্মা নদীর গোয়ালন্দ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৪৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে আত্রাই নদীর বাঘাবাড়ি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৪০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে। ধলেশ্বরী নদীর এলাসিন পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৪৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে ধরলা নদীর কুড়িগ্রাম পয়েন্টে পানি ৩৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় জামালপুরে যমুনা নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ৩ দিন আরও পানি বাড়তে পারে। তবে ১ তারিখের পর পানি আবারও কমতে শুরু করবে।

ব্রহ্মপুত্রের পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ২৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে জেলার নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়ে পড়ায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এসব এলাকার অন্তত ৩৫ হাজার পরিবার। তলিয়ে গেছে নিচু এলাকার কয়েক হাজার হেক্টর জমির রোপা আমনসহ সবজি ক্ষেত ও আমনের বীজতলা।

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও পরিমাণ খুবই কম। সেক্ষেত্রে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহের দিকে বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে বন্যা মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। প্রতি মুহূর্তে যমুনা নদীর বাঁধ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

এদিকে কুড়িগ্রামে ফের ধরলা ও ব্রহ্মপুত্রসহ সবগুলো নদনদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের রিডিং অনুসারে জানা যায়, ধরলা নদীর সেতু পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর এবং ব্রহ্মপুত্র নদে চিলমারী পয়েন্টে ২৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির ফের মারাত্মক অবনতি ঘটেছে।

এ অবস্থায় নদনদীর তীরে নিম্নাঞ্চলসহ প্রায় ২ শতাধিক চর ও দ্বীপচরের প্রায় ৪০ হাজার পানিবন্দি মানুষ রয়েছেন বিপাকে। এসব এলাকার মানুষের রয়েছে খাদ্য সংকট। অনেকেই নদীর পাশে উঁচু বাঁধে এসে আশ্রয় নিতে শুরু করেছেন। এসব এলাকার গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। কেউ কেউ কলা গাছের ভেলা বানিয়ে নিজ বাড়ি থেকে বাঁধে কিংবা অন্যত্র আসা যাওয়া করছেন। আবার অনেকের বাড়িঘরে পানি উঠায় নৌকাই তাদের একমাত্র ভরসা। সেখানেই চলছে থাকা ও রান্নাসহ খাওয়া দাওয়া।

সংবাটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খরব
© Copyright © 2017 - 2021 Times of Bangla, All Rights Reserved